NAVIGATION MENU

হারিয়ে গেলেন ভারতীয় হকির স্বর্ণযুগের বলবীর সিং


আক্ষরিক অর্থেই ভারতীয় হকির এক স্বর্ণযুগের অবসান হল। যাদের দৌলতে বিশ্ব হকির মানচিত্রে স্বর্ণাক্ষরে নাম লিখিয়েছে ভারত, সেই ভারতীয় দলের অন্যতম সফল তারকা বলবীর সিং সিনিয়রের জীবনাবসান। 

সোমবার সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ মোহালির এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলবীর সিং সিনিয়র ( Balbir Singh Senior)।

গত ৮ মে জ্বর, সর্দি, কাশির উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভরতি হয়েছিলেন ভারতের কিংবদন্তি হকি তারকা। প্রথমে করোনা সন্দেহ করা হলেও রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। কিন্তু কিংবদন্তি তারকাকে সুস্থ করা যায়নি।

গত ২ সপ্তাহে বেশ কয়েকবার হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগেছেন। অবশেষে সোমবার তাঁর লড়াই শেষ হয়। ভারতীয় হকির অন্যতম সফল তারকার মৃত্যুতে ক্রীড়া মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

১৯২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন বলবীর সিং। হকির প্রতি ঝোঁক ছিল ছোটবেলা থেকেই। খেলোয়াড়জীবনে তাঁর সাফল্যও ঈর্ষণীয়। পরপর তিনটি অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন বলবীর। 

১৯৪৮ লন্ডন অলিম্পিক, ১৯৫২ হেলসেনকি অলিম্পিক, ১৯৫৬ মেলবোর্ন অলিম্পিকে সোনা জেতেন তিনি। এর মধ্যে ১৯৫২ সালে ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ক ও ১৯৫৬ সালে ভারতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। 

১৯৫৮ সালে টোকিও এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে রূপো জেতেন বলবীর সিং। ১৯৫৬ অলিম্পিকের ফাইনালে তাঁর করা ৫টি গোল এখনও অলিম্পিক ফাইনালে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড হিসেবে অক্ষত আছে।

খেলোয়াড় জীবনের পাশাপাশি কোচ হিসেবেও অনবদ্য নজির গড়েছেন তিনি। ১৯৭৫ সালে তাঁর কোচিংয়েই একমাত্র বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ যেতে ভারত। 

এর চারবছর আগেই অবশ্য বিশ্বকাপে দলকে ব্রোঞ্জ জিনিয়েছিলেন বলবীর। ১৯৫৭ সালে বলবীর সিং সিনিয়রকে ‘পদ্মশ্রী’ দেওয়া হয়। তাঁর মৃত্যুতে ক্রীড়া জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন, কলকাতা

এস এস