ন্যাভিগেশন মেনু

সেরাম ছাড়াও অন্য দেশ থেকে টিকা আনার চেষ্টা চলছে


বাংলাদেশ বৈশ্বিক কোভিড-১৯ রুখতে ভারতের পাশাপাশি অন্য দেশ থেকেও করোনার টিকা আনার উদ্যোগ নিয়েছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

বুধবার সচিবালয়ে ক্লিনিক ভবনে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তথ্যমন্ত্রী  একথা জানান। মন্ত্রী জানান, করোনার দ্বিতীয় ডোজের প্রাপ্যতা নিয়ে অনেক অপপ্রচার ছড়ানো হয়েছিল।

কিছু পত্রপত্রিকা, প্রচার মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক অপপ্রচার চালিয়ে করোনার দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে জনগণের মধ্যে সংশয় তৈরির অপচেষ্টা চালায়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ইতিমধ্যেই প্রায় ১৭ লাখ মানুষ করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহের চেষ্টা করে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এ কমিটিকে টিকার বিকল্প উৎসগুলো খুঁজে বের করে সাত দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম জানান, যথাসময়ে টিকা পাওয়া নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল।

সেজন্য আমরা টিকার বিকল্প উৎস খুঁজতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করি। তিনি বলেন, চিনের টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। আমাদের কমিটি ওই প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে দেখবে।তারা

এ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার পর একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে কমিটিতে আরও সদস্য যুক্ত করা হতে পারে। চলমান টিকাদান কর্মসূচি প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, সময়মতো যদি টিকা নাপাই, তবে টিকাদান কর্মসূচি বিঘ্নিত হওয়ার একটা আশঙ্কা থাকে।

সিনোফার্ম বাংলাদেশকে ৬০ লাখ ডোজ করোনার টিকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি এমন সময় এসেছে, যখন দেশে প্রতিদিন সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সেরাম ইনস্টিটিউট ছয় ধাপে বাংলাদেশকে তিন কোটি টিকা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার টিকার বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে।

এছাড়া, রাশিয়ার টিকা স্পুতনিক-ভি পাওয়ার জন্যেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বাংলাদেশ সরকার। সরকার সেরামের সঙ্গে তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি করেছিল স্থানীয় এজেন্ট বেক্সিমকোর মাধ্যমে। চুক্তি অনুসারে, প্রতি মাসে টিকার ৫০ লাখ ডোজ পাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের।

কিন্তু, মঙ্গলবার গতকাল পর্যন্ত দুই দফায় মাত্র ৭০ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন রপ্তানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত সরকার।

অবশ্য বেক্সিমকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাজমুল হাসান পাপন জানান, সেরামের কাছ থেকে এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে, শিগগিরই টিকা পাওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। 

মঙ্গলবার রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, রাশিয়া সরকার বাংলাদেশকে আড়াই কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কেনা অথবা একই পরিমাণ ভ্যাকসিন স্থানীয়ভাবে উৎপাদনে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তারা ভ্যাকসিনগুলো সরবরাহ করতে চায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ ছাড়া রাশিয়া সরকার আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে কয়েক ধাপে আরও সাড়ে তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কেনারও প্রস্তাব দিয়েছে।’ তারা ভ্যাকসিন রপ্তানি অথবা স্থানীয়ভাবে উৎপাদনে সহায়তা দিতেও আগ্রহী।

এস এস