ন্যাভিগেশন মেনু

সাংবাদিক সায়মন ড্রিং-এর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক


বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং-এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

মঙ্গলবার (২০ জুলাই) এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধে সাংবাদিক সায়মন ড্রিং-এর সাহসী অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর ভয়াবহ গণহত্যার তথ্য ও প্রতিবেদন তিনি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনমত সৃষ্টিতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশে গণমাধ্যমের বিকাশে ও দেশের প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভি'র পরিচালনাতেও তার অবদান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

গত শুক্রবার (১৬ জুলাই) রোমানিয়ার একটি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। 

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি কাজ করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বন্ধু হিসেবে ২০১২ সালে সাইমন ড্রিংকে সম্মাননা দেয়। ২৫ মার্চ ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ৫০ জন বিদেশি সাংবাদিকের মধ্যে তিনিও ছিলেন।

সাইমন ড্রিং সাংবাদিকতায় আসার আগে তিনি ফিচার লিখতেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধে প্রতিবেদন লেখার মধ্য দিয়ে তিনি সাংবাদিকতায় আসেন। তিনি রয়টার্স, বিবিসি ও দ্য টেলিগ্রাফের মতো মিডিয়ায় কাজ করেছেন। 

সাইমন ড্রিংয়ের জন্ম ইংল্যান্ডে, ১৯৪৫ সালে। তিনি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন ১৮ বছর বয়স থেকে। দেখেছেন ২২টি যুদ্ধ, অভ্যুত্থান ও বিপ্লব।

১৯৭১ সালে দৈনিক দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের রিপোর্টার সাইমন ড্রিং কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে কাজ করতেন। সে সময় লন্ডনের সদর দপ্তর থেকে ফোন করে তাকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পাঠানো হয়। তিনি মার্চের ৬ তারিখে কম্বোডিয়া থেকে ঢাকায় চলে আসেন।

ঢাকায় সাইমন উঠেছিলেন শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী হত্যাযজ্ঞ শুরু করার আগেই ঢাকায় সে সময় অবস্থানরত সব বিদেশি সাংবাদিককে ওই হোটেলে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

সেনা কর্তৃপক্ষ তাদের বলে, শহরের পরিস্থিতি খুব খারাপ, নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের হোটেলের ভেতরেই অবস্থান করতে হবে। পরদিন সকালেই তাদের বিমানবন্দরে নিয়ে তুলে দেওয়া হয় উড়োজাহাজে। কিন্তু পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ সাইমন ড্রিংকে খুঁজে পায়নি। তিনি প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে হোটেলের ভেতরেই লুকিয়ে ছিলেন।

২৭ মার্চ সকালে কারফিউ উঠে গেলে হোটেলের কর্মচারীদের সহযোগিতায় ছোট্ট একটি মোটরভ্যানে করে ঘুরে ঘুরে দেখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হল, রাজারবাগ পুলিশ ব্যারাক ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা। এরপর লেখেন ‘ট্যাংকস ক্র্যাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান’ শিরোনামের এক প্রতিবেদন।

ঢাকায় দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো প্রথম দফার গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রত্যক্ষ চিত্র উঠে আসে ওই প্রতিবেদনে।

লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় ৩০ মার্চ সেটা ছাপা হয়। এই প্রতিবেদন থেকেই বিশ্ববাসী জানতে পারে পাকিস্তানি বাহিনীর সেদিনের বর্বরতার কথা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত সঞ্চারের প্রাথমিক মুহূর্ত ছিল সেটি। 

৩০ মার্চ সাইমনকে লন্ডন চলে যেতে হয়। এরপর কলকাতায় আসেন নভেম্বরে; সেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধের খবরাখবর সংগ্রহ করে পাঠিয়ে দিতেন লন্ডনের টেলিগ্রাফ পত্রিকায়। বিজয়ের দিন ১৬ ডিসেম্বর তিনি মিত্রবাহিনীর সঙ্গে ট্যাংকে চড়ে ময়মনসিংহ হয়ে প্রবেশ করেন মুক্ত বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়।

এডিবি/