ন্যাভিগেশন মেনু

শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টাকারী ইকবাল ছাত্রদল থেকে হুজিতে যোগ দেয়


জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানের নির্দেশে ইকবাল হোসেন শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে গ্রেনেড হামলায় জড়িত হয়। হামলার পর আত্মগোপনে গিয়ে কখনো নিরাপত্তাকর্মী, শ্রমিক আবার কখনো রিকশার মেকানিক হিসেবে ছদ্মবেশে জীবনযাপন করতে থাকে। 

একপর্যায়ে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায়। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ম্যানুয়াল পাসপোর্টের সুযোগ নিয়ে ভিন্ন পরিচয়ে বিদেশে চলে যায়। 

এরআগে আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নেতৃত্বশূন্য করার উদ্দেশ্যেই শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল।  ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায়’ তদানীন্তন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল।  

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

জঙ্গি ইকবালকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব ডিজি বলেন, এইচএসসি পাস ইকবাল স্কুল-কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। ইকবাল ১৯৯৪ সালে ঝিনাইদহ কেসি কলেজের ছাত্র সংসদে ছাত্রদলের নির্বাচিত শ্রেণি প্রতিনিধি ছিল। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত কর্মজীবী হিসেবে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে।

দেশে ফিরে ইকবাল আইএসডি ফোন ও অন্য ব্যবসা শুরু করে। এসময় সর্বহারা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে কোন্দলে জড়িয়ে যায়। ২০০১ সালে স্থানীয় এক জঙ্গি সদস্যের মাধ্যমে তিনি হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশে (হুজিবি) যোগ দেন। ২০০৩ সালে হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ শীর্ষ নেতাদের সান্নিধ্যে এসে প্রশিক্ষণ নিতে থাকে। ২০০৪ সালে মুফতি হান্নানের নির্দেশে ঢাকায় এসে গোপন আস্তানায় অবস্থান করে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মুফতি হান্নানের নির্দেশে সরাসরি অংশ নেন জানিয়ে র‌্যাব প্রধান বলেন, মুফতি হান্নান তাকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিল। হামলার সময় সরাসরি মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়েছিল। ঘটনার পররপরই সে আত্মগোপনে ঝিনাইদহে চলে যায়।

ঘটনার পর জঙ্গি ইকবালকে গ্রেফতার করতে একাধিক অভিযান পরিচালিত হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে তাকে গ্রেফতারে ঝিনাইদহের নিজবাড়ি, গাজীপুর, সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। আত্মগোপনে থাকাকালীন ইকবাল নিরাপত্তাকর্মী, শ্রমিক, রিকশা মেকানিক হিসেবে ছদ্মবেশে জীবনযাপন করে। তাকে গ্রেফতারে ধারাবাহিক অভিযানের একপর্যায়ে প্রবাসে পাড়ি জমায়। ২০২০ সালের শেষের দিকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে তাকে দেশে পাঠানো হয়।

এনএসআই এবং র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা জঙ্গি ইকবালের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় জঙ্গি ইকবালকে গ্রেফতার করা হয়।

এতো গুরুত্বপূর্ণ একজন আসামি কীভাবে বিদেশে পাড়ি জমাল, জানতে চাইলে র‌্যাব প্রধান বলেন, আমরা ধারণা করছি ২০০৮ সালে ম্যানুয়াল পাসপোর্টের সুযোগে ভিন্ননামে দেশ ছেড়েছিলেন সে । বিদেশে গিয়েও সে দু’বার নাম পরিরিবর্তন করে।

২১ আগস্ট মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত আসামি ইকবাল হোসেন। বিএনপি-জামাত শাসনামলে  ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে শেখ হাসিনার জনসভা মঞ্চে ইকবাল গ্রেনেড ছুড়েছিল। 

ঘটনার ১৬ বছর এবং আদালতের রায়ের তিন বছর পর মঙ্গলবার ইকবালকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। দেশের দক্ষিণ জনপদ জেলা ঝিনাইদহে ইকবাল এক সময় বিএনপি’র ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদে (হুজি) জড়িয়ে পড়েন। বিএনপি শাসনামল শেষ হলে ২০০৮ সালে ইকবাল বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিলে।  

গ্রেনেড হামলার মামলার রায় হয়েছিল ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর। ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রায়ে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ যে ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

তার মধ্যে ইকবালও রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয় আরও ১১ আসামির। দণ্ডিত ৩৩ আসামি কারাগারে থাকলেও পলাতক ছিল ১৬ জন। ইকবাল গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন পলাতক রইল ১৫ জন। ইকবাল ১৯৯৫ হতে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় ছিল জানিয়ে আল মামুন বলেন,  দেশে এসে জঙ্গি ইকবাল আইএসডি ফোন ও অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করে।

শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার আরেক আসামি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত মুফতি হান্নানের নির্দেশে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল সে। মুফতি হান্নান তাকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিল। ইকবাল মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়েছিল। 

এস এস