NAVIGATION MENU

লঞ্চডুবির ১৩ ঘণ্টা পর যেভাবে জীবিত উদ্ধার হলেন সুমন বেপারী


রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটেছে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। আর রাত ১০টার দিকে ডুবে যাওয়া 'মর্নিং বার্ড' লঞ্চ থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে থাকা এক লঞ্চযাত্রীকে উদ্ধার করেছে ডুবুরিরা।

দীর্ঘ ১৩ ঘন্টা পর জীবিত উদ্ধার ওই ব্যক্তির নাম সুমন বেপারী। তার বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ীর আবদুল্লাহপুরে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার অভিযানে আসার সময় বুড়িগঙ্গা-১ সেতুতে আটকে যায় উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়। এ সময় সেতু এবং উদ্ধারকারী জাহাজের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে আর উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে পারেনি 'প্রত্যয়'।

পরে, সনাতন পদ্ধতিতে লঞ্চ উদ্ধারের বিকল্প চিন্তা করেন বিআইডব্লিউটিএ'র কর্মকর্তারা। সে চিন্তার অংশ হিসেবেই এয়ার লিফটিং ব্যাগ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধারের জন্য যখন পানির নিচে এয়ার লিফটিং ব্যাগ বসানোর কাজ করছিলেন ডুবুরিরা, এ সময় ডুবে যাওয়া লঞ্চটির একাংশ ভেসে উঠেছিল। তখন লঞ্চের ভিতর থেকে বের হয়ে আসেন সুমন বেপারী। পরে তাকে উদ্ধার করেন ডুবুরিরা।

তারপর তাৎক্ষণিক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ সময় ডুবুরিরা তাকে লাইফ জ্যাকেটে ঢেকে এবং শরীর মেসেজ করে তার শরীর গরম করার চেষ্টা করেন। তবে তিনি সুস্থ আছেন। তার শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক আছে বলেও জানান ফায়ার সার্ভিস। তারপরও তাকে উদ্ধারের পর রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা 'মর্নিং বার্ড' নামের লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মরদেহগুলো সনাক্ত করে ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, নৌবাহিনী সদস্য এবং কোস্টগার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে এখনও কাজ করছেন।

এর আগে সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদরঘাটে ঘাটে যাত্রী নামানোর ঠিক আগ মুহূর্তে 'মর্নিং বার্ড' নামের  এই লঞ্চটি ময়ূর-২ নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় শ্যামবাজারের কাছে মাঝ নদীতে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায়। লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে ঢাকার সদরঘাটে আসছিল 'মর্নিং বার্ড'। 

এডিবি/