ন্যাভিগেশন মেনু

যুক্তরাজ্য,দ:আফ্রিকা ও ব্রাজিল ভ্যারিয়েন্টেই দেশে মৃত্যু উর্ধ্বমুখী

সংক্রমণের উর্ধ্বমুখীর মধ্যে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীসহ সারাদেশের টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে এ কর্মসূচির শুরু হয়।

প্রথম দিনে এই ডোজ নিলেন ৩১ হাজার ১৬০ জন।এদিকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি ঘটছেই। প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সংক্রমণ ও  মৃ্ত্যু।

এ ভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ও রেকর্ড সংখ্যক রোগী সনাক্ত হয়েছেন। এ সময় করোনা সনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৬৬২ জনের। করোনায় মারা গেছেন ৬৩ জন, যা একদিনে তৃতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু।দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ হাজার ৪৪৭ জনে পৌঁছেছো।

আর মোট সনাক্তের সংখ্যা বেড়ে  হলো ৬ লাখ ৫৯ হাজার ২৭৮ জন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আজকের (বৃহস্পতিবার) রিপোট এখনও পাওয়া যায়নি।এদিকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।   

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিয়ে অনীহায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তবে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনাভাইরাসের যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্ট। এসব ভ্যারিয়েন্ট খুব দ্রুত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে কাজ করে থাকে।

অন্যান্য দেশের মতো এই ভ্যারিয়েন্টগুলোর দেখা মিলেছে বাংলাদেশেও। শুধু তাই নয়, জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের তথ্য বলছে— নবজাতক শুরু করে তরুণ কিংবা বয়স্কদের মধ্যেও এসব ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি দেখা গেছে।

এদিকে করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে বাঁচাতে তাঁর সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতেই দেশে যুক্তরাজ্যে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট (B.1.1.7 variant 20I/501Y.V1) শনাক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে ফেব্রুয়ারিতে শনাক্ত হয় দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট (B.1.351 variant 20H/501Y.V2)। আর ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্ট (ই৪৮৪কে মিউটেশন) শনাক্ত হয় গত মার্চে।

এই তিন দেশের করোনা ভ্যারিয়েন্ট এখন পর্যন্ত যতগুলো পাওয়া গেছে, তার বেশিরভাগই অবশ্য মার্চের।মার্চের শুরুর দিকেও যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্টই বেশি ছিল দেশে। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টটি প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। আর চতুর্থ সপ্তাহে গিয়ে গবেষণার ফল বলছে, ৫৭টি নমুনার সিকোয়েন্সিংয়ে ৪৬টিই (৮১ শতাংশ) ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট।

গত ২৭ জানুয়ারি টিকাদান কার্যক্রম শুরুর পর থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে মোট টিকাগ্রহণকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ লাখ ৬৮ হাজার ৭০৩ জন।তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার উপসর্গ নিয়ে রিপোর্ট করেছেন মোট ৯৩৯ জন।

এস এস