ন্যাভিগেশন মেনু

মুভমেন্ট পাস নিয়ে যাচ্ছিলেন শিং মাছ কিনতে, জরিমানা ৩ হাজার


করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধের মধ্যে জরুরি কাজে যাদের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হবে তাদের জন্য মুভমেন্ট পাসের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।

চিকিৎসাসেবার মতো জরুরি কোনো প্রয়োজনে নয়, বাজার থেকে শিং মাছ কিনতে মুভমেন্ট পাস ব্যবহার করেছেন এক নগরবাসী। রাজধানীর উত্তরা এলাকায় থাকেন হাফিজুর রহমান (ছদ্মনাম)। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধ শুরুর দিন বুধবার তার ইচ্ছা হলো শিং মাছ খাওয়ার। সে জন্য মুভমেন্ট পাস নিয়ে বাসা থেকে রওনা হন রাজধানীর মালিবাগের উদ্দেশে।

বাসা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের গন্তব্যে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন হাফিজুর। কিন্তু পথে বাগড়া দেয় পুলিশ। হাফিজুর পুলিশ সদস্যদের তার মুভমেন্ট পাস দেখান, যা তিনি নিয়েছিলেন বাজার করার জন্য। কিন্তু তাতে মন গলেনি পুলিশের।

ট্রাফিক পুলিশের কর্তব্যরত সার্জেন্ট মনে করেছেন, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে শিং মাছ কিনতে উত্তরা থেকে মালিবাগ যাওয়াটা পাসের অপব্যবহার। আর সেই ‘অপব্যবহারের’ জন্য জরিমানা গুনতে হয় হাফিজুরকে। সরকারি আদেশ অমান্য করার অভিযোগে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের সামনে বসানো চেকপোস্টে রহিমকে জরিমানা করা হয় তিন হাজার টাকা।

বেলা ১১টার দিকে রামপুরা টিভি সেন্টারের সামনে হাফিজুরকে জরিমানা করেন সার্জেন্ট শেখ যোবায়ের আহমেদ।

সার্জেন্ট যোবায়ের বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘরের বাইরে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। আমরা তা বাস্তবায়ন করছি। একজন মানুষ উত্তরা থেকে মালিবাগ শিং মাছ কিনতে যাচ্ছে- এটা কোনোভাবেই জরুরি কাজ হতে পারে না।’

শুধু হাফিজুর নন, পুলিশের বিবেচনায় মুভমেন্ট পাসের অপব্যবহার করা অনেকেই গুনেছেন এমন মামলা। সে অঙ্কটা কমপক্ষে তিন হাজার টাকা।

তবে এসব জরিমানা শুধু যারা প্রাইভেট কার, মাইক্রো বা মোটরসাইকেলের মতো ব্যক্তিগত যান ব্যবহার করছেন তাদেরই করা হচ্ছে। দরকার ছাড়া হেঁটে বা রিকশায় চড়ে যারা বের হয়েছেন তাদের পাস না থাকলে বাসায় ফিরিয়ে দেয় পুলিশ।

ওআ/