ন্যাভিগেশন মেনু

মায়ানমারে বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে নিহত ২


মায়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে কমপক্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে এটিই সবচেয়ে বড় সহিসংতার ঘটনা। এ নিয়ে মায়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে তিনজন নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দেশটির সুরক্ষা বাহিনী তাজা গুলি, রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস, জল কামান ব্যবহার করে পুলিশ। এতে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়।

বিবিসি জানায়, মায়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরটিতে একটি জাহাজ নির্মাণ কারখানার সামনে বিক্ষোভ করতে জড়ো হয় হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীরা তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) অন্য নেতাদের সাথে সাথে সু চিরও মুক্তির দাবি জানাতে থাকে। এসময় পুলিশ মান্দালয়ে ধর্মঘটে থাকা জাহাজ নির্মাণ কারখানার শ্রমিক এবং বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি হলে সহিংসতা শুরু হয়। 

নিহতদের একজনের স্বজন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তিনি একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন এবং তার বয়স ছিল ৩৬ বছর। তার বুকে গুলি লেগেছিল। নিহতদের মধ্যে আরেকজনের বয়স ১৮ বছরের কম। তার মাথায় গুলি লেগে নিহত হয়।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয় যে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারলে এর জবাবে তাজা গুলি এবং টিয়ার গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।

ছবিতে দেখা যায় যে বিক্ষোভকারীরা তাদের উপর ছোড়া বুলেটের খালি কার্তুজ সংগ্রহ করেছেন।

এই সহিংসতার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব এক ট্যুইটে বলেছেন, 'মায়ানমারের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভাকারীদের উপর গুলির ঘটনা অগ্রহণযোগ্য। যারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে এবং ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ করছে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে মিলে এ বিষয়ে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবো।'

এর আগে গত শুক্রবার মিয়া থয়ে থয়ে খাইং নামে এক তরুণী সামরিক সরকারবিরােধী বিক্ষোভে নিহত হয়।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানী নেপিডোতে এক বিক্ষোভে মিয়া থয়ে থয়ে খাইং নামে ওই নারী মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। 

সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থান ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে।

অবৈধ ওয়াকিটকি ব্যবহার এবং দেশটির প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক আইন অমান্য করার অভিযোগে গৃহবন্দী রয়েছেন অং সান সূ চি। সামরিক বাহিনী অভিযোগ তুলেছে যে, গত বছর যে নির্বাচনে এনএলডি ব্যাপক জয় পেয়েছিল তাতে জালিয়াতি হয়েছে। তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি তারা।

এডিবি/