ন্যাভিগেশন মেনু

মহাখালীর সাততলা বস্তিতে আগুন, পুড়ে গেছে কয়েকশ’ ঘর


রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট ও স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আগুনে পুড়ে গেছে কয়েকশ’ ঘর। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবার (৭ জুন) ভোর ৪টার দিকে এই আগুন লাগে। সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার কামরুল ইসলাম বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটের চেষ্টায় সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তিনি জানান, ভোর ৪টার দিকে ভয়াবহ এ আগুনের সূত্রপাত হলে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে আরও বাড়ানো হয় ইউনিটের সংখ্যা।

আগুন নেভাতে পার্শ্ববর্তী জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন জলাশয় থেকে পানি আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও আগুন নেভানোর প্রাণপণ চেষ্টা করে। কিন্তু বাতাসে আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয়।

এদিকে আগুন লাগার পরপরই নিজেদের জানমাল নিয়ে কোনো মতে ঘর ছেড়েছেন বস্তির বাসিন্দারা। বস্তির সামনের রাস্তায় জিনিসপত্র নিয়ে অবস্থান করছেন তারা। 

এদিকে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আগুন ছড়িয়ে পড়ার সব উপাদানই বস্তিতে ছিল।

তিনি বলেন, ‘এই বস্তি সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। এখানে অবৈধ গ্যাস ও বিদুৎ সংযোগও রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- গ্যাস বা বিদুৎ সংযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই বস্তির ঘর-বাড়ি বাঁশ ও কাঠের কাঠামোতে তৈরি করা হয়েছে। ফলে আগুন সহজেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। দক্ষিণা বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে ঘটনার পর খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ছুটে এসেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।’

এডিবি/