NAVIGATION MENU

ভারতে যাত্রীবাহী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিষেবা চালু


করোনাভাইরাস মহামারিতে লকডাউন থাকায় দু’মাস বন্ধ থাকার পরে অবশেষে সোমবার (২৫ মে) থেকে চালু হচ্ছে ভারতের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিষেবা।

গত মার্চের শেষে দেশব্যাপী লকডাউনের নির্দেশ দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই থেকে বন্ধ রয়েছে উড়োজাহাজ চলাচল। অবশেষে এই পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে উড়ানের ক্ষেত্রে স্বস্তির বাতাবরণ তৈরি করবে। 

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, দীর্ঘদিন পরিষেবা বন্ধ থাকায় চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়েছে এই সেক্টরকে। রবিবার বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর সোমবার থেকে দেশীয় উড়ান পরিষেবা চালুর বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী হরদীপ পুরী জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সঙ্গে ‘সারাদিন কঠিন আলোচনা’ শেষে সোমবার থেকে উড়ান শুরুর বিষয়টি পাকা হয়। 

দেশের ১.৩ লাখ করোনা সংক্রমিতের কথা মাথায় রেখে বিমানবন্দরে কী করা যাবে ও যাবে না তার তালিকা পেশ করেছে কেন্দ্র। এর অন্যতম সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ‘নো কনট্যাক্ট’ চেক ইন। 

তাছাড়া, জুন মাসের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিষেবা শুরুর কথা জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ পুরী ট্যুইট করে জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সঙ্গে কঠিন আলোচনা শেষে দীর্ঘদিন পরে দেশের যাত্রীবাহী বিমান পরিষেবা শুরুর বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। তবে অন্ধ্রপ্রদেশে এই পরিষেবা শুরু হবে ২৬ মে। এবং বাংলায় ২৮ মে। বাকি দেশে সোমবার থেকেই বিমান পরিষেবা শুরু হয়ে যাবে।

সমস্ত যাত্রীকে সরকারের তরফে ‘আরোগ্য সেতু' অ্যাপ ডাউনলোড করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যগুলিকে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা রাখার কথাও বলা হয়েছে। উড়ানের সময়ের দু'ঘণ্টা আগে যাত্রীদের বিমানবন্দরে পৌঁছনোর কথা বলা হয়েছে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগামী তিনমাসের জন্য টিকিটের সীমা ২ হাজার টাকা থেকে ১৮ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে রাখা হয়েছে সাতটি বিভাগে। মাঝের আসন ফাঁকা রাখার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে টিকিটের দাম সাধ্যের মধ্যে রাখার জন্য।

বহু রাজ্য, যাদের মধ্যে বিজেপি শাসিত অসম ও উত্তরপ্রদেশও রয়েছে, তারা জানিয়েছে কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক। পশ্চিমবঙ্গ, পঞ্জাব, কেরলের ক্ষেত্রে যাত্রীদের ১৪ দিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। আবার ছত্তিশগড়ে যাত্রীদের ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রে থাকা বাধ্যতামূলক। কর্নাটক ও অসমে কোয়ারান্টিনে থাকার ১৪ দিনের সময়সীমাকে বাড়িতে ও কোয়ারান্টিনে কেন্দ্রের মধ্যে ভাগ করা হয়েছে। 

অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ আরও সময় চেয়েছে তাদের রাজ্যে বিমান পরিষেবা শুরুর ব্যাপারে। আমফানের ধাক্কায় বিপর্যস্ত বাংলায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও একটু সময় লাগবে বলে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। 

এদিকে করোনা সংক্রমণের বিপুল সংখ্যার কথা মাথায় রেখে মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্য উড়ান শুরুর ব্যাপারে সময় চাইলেও শেষ পর্যন্ত জানিয়েছে, তারা ২৫টি উড়ান মুম্বই থেকে পরিচালনা করবে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে জানিয়েছিলেন, বিমান পরিষেবা শুরুর জন্য তাঁদের কিছুটা সময় লাগবে। 

বিমান পরিষেবা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে মুম্বই বিমানবন্দরে দু'জন শুল্ক আধিকারিকের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মহারাষ্ট্রের ৫০ হাজার করোনা আক্রান্তের মধ্যে ২০ হাজার মানুষ মুম্বইয়ের বাসিন্দা। 

বিমানমন্ত্রী হরদীপ পুরী আগে জানিয়েছিলেন, ‘আমরা ১৪ দিনের কোয়ারান্টাইনের ব্যবস্থা রাখছি না। এটা বাস্তবসম্মত নয়। কেন আমরা কোয়ারান্টাইন নিয়ে হইচই করছি? পজিটিভদের তো বিমানে চড়তেই দেওয়া হবে না'

ভারতে এই মুহূর্তে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৮৬৮ জন। মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৮৬৭ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছে ১৪৭ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৭৬৭ জন। যা একদিনের সর্বাধিক সংক্রমণের রেকর্ড।

এডিবি/