ন্যাভিগেশন মেনু

বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন


বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন-২০২১ এর খসড়ার  চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। 

সোমবার (৩ মে) ভিডিও কনফারেন্সে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী এর সভাপতিত্ব করেন।

বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলি এখন বেসরকারী মেডিকেল কলেজ স্থাপনা এবং অপারেশন গাইডলাইনস ২০১১ এবং বেসরকারী ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং অপারেশন গাইডলাইনস ২০০৯ এর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, একটি মেডিকেল বা ডেন্টাল কলেজের কমপক্ষে ৫০ জন ছাত্র থাকতে হবে এবং প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী তার শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:১০ হতে হবে।

পাশাপাশি তিনি বলেন, একটি মেডিকেল কলেজের যে কোনও মহানগরীতে কমপক্ষে দুই একর জমি থাকতে হবে এবং ডেন্টাল কলেজের জমি প্রয়োজন এক একর।

সচিব বলেন, মহানগর অঞ্চলের বাইরের মেডিকেল কলেজের জন্য জমি প্রয়োজন চার একর এবং ডেন্টাল কলেজের জন্য এটি দুই একর হবে। যে কোনও মেডিকেল কলেজকে যে কোনও বাণিজ্যিক ব্যাংকে সংরক্ষিত তহবিল হিসাবে তিন কোটি টাকা জমা দিতে হবে এবং এটি ডেন্টাল কলেজের জন্য ২ কোটি টাকা হবে।

একাডেমিক উদ্দেশ্যে যে কোনও মেডিকেল কলেজে প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী এক লাখ বর্গফুট জায়গা এবং হাসপাতালের উদ্দেশ্যে আরও এক লাখ বর্গফুট জায়গা থাকতে হবে। এছাড়াও ডেন্টাল কলেজ এবং হাসপাতালের জন্য প্রতিটি স্থানের পরিমান হবে ৫০,০০০ বর্গফুট।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ এই কলেজ এবং হাসপাতাল বিভিন্ন সময়ে তদারকি করবে। মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ যে কোনও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুমোদিত হতে হবে এবং মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের একাডেমিক ফি সরকার নির্ধারণ করবে। বেসরকারী মেডিকেল কলেজ বা ডেন্টাল কলেজ কর্তৃপক্ষকে সঠিক বৈজ্ঞানিক উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে।

আইন লঙ্ঘনে শাস্তি সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদন্ড বা দশ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। দেশে বর্তমানে ৭০ টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং ২৬ টি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ রয়েছে।

নতুন যুগের সাথে তাল মেলাতে এবং আইনকে যুগোপযোগীকরণে মন্ত্রিসভা টেরিটরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস (সংশোধন) আইন, ২০২১ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রণীত পুরাতন আইনটিকে নতুন করে সংশোধিত আকারে উপস্থাপিত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধিত আইনে ২২ টি নতুন সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নতুন আইনে অঞ্চল, উচ্চ সমুদ্র অঞ্চল, নীল অর্থনীতি, সমুদ্র সহযোগিতা, গবেষণা এবং সমুদ্র দূষণের সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশ গ্যাস, তেল ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন আইন-২০২১ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০২১ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনও এদিন মস্ত্রিসভায় উত্থাপিত হয়।

গত বছর একই সময়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এবার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। গত বছরের চেয়ে ১৬ দশমিক ০১ শতাংশ কমেছে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৫টি মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। এতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ৪১টি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয় ২০টি। ২১টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৪৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

অপরদিকে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১০টি মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ওই সময়ে সিদ্ধান্ত হয় ৭১টি। এরমধ্যে ৪৬টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন ছিল ২৫টি। বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

সচিব জানান, গত ৭ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে একটি নীতি বা কর্মকৌশল এবং একটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়েছে। এ সময়ে সংসদে আইন পাস হয়েছে ৬টি।

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৪টি নীতি বা কর্মকৌশল এবং ৪টি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়। এ সময়ে সংসদে ৭টি আইন পাস হয় বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

ওআ/