ন্যাভিগেশন মেনু

বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তা জাইন সিদ্দিকী ময়মনসিংহের সন্তান


যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তা জাইন সিদ্দিকীর বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের মাদারীনগর গ্রামে।

এই গ্রামেই ৩০ বছর বয়সি বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তা জাইন সিদ্দিকীর পূর্বপুরুষের ভিটা। এই বাড়িতে আছেন তার অনেক স্বজন।

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক জাইন সিদ্দিকীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে।

মার্কিন প্রশাসনের এত উচ্চপদে এর আগে কোনো বাংলাদেশি বসেননি। সেই সূত্রে নান্দাইলের ছোট্ট গ্রাম মাদারীনগরের কথা এখন অনেকের মুখে মুখে।

পরিবারের লোকজন জানান, ২০১৬ সালে জাইন তার বাবার সঙ্গে মাদারীনগর গ্রামে ঘুরে গেছেন। তবে বর্তমানে তার পরিবারের কেউ ওই গ্রামে থাকেন না। বাড়িতে থাকেন জাইনের চাচাতো ভাই ও বংশের অন্যরা।

জাইনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, জাইনের দাদার নাম আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি এই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার ছেলে মোস্তাক আহমেদ সিদ্দিকী। চিকিৎসক মোস্তাক আহমেদ ও হেলেনা সিদ্দিকী দম্পতির ছেলে জাইন সিদ্দিকী। জাইনের বাড়িটি এলাকাবাসীর কাছে মজিদ মাস্টারের বাড়ি বলে পরিচিত।

প্রায় ৩৩ বছর আগে তারা পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানেই নাগরিকত্ব পেয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তারা। সেখানেই জন্ম জাইন সিদ্দিকীর।

জাইন সিদ্দিকীর চাচা মো. বাক্কী মিয়া (৩৫) বলেন, ২০১৬ সালে মোস্তাক আহমেদ সিদ্দিকী যখন মাদারীনগর গ্রামে আসেন, তখন জাইন তার সঙ্গে ছিলেন। এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে তার নিয়োগ পাওয়ার খবরে পরিবার ও গ্রামের মানুষের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা। সবাই বলছেন, জাইন সিদ্দিকী শুধু নান্দাইলের নন, ময়মনসিংহের গর্ব, বাংলাদেশের গর্ব।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজন ছুটে আসছে জাইনদের গ্রামের বাড়িতে। তার জন্য শুভকামনা জানিয়ে গ্রামের মসজিদে দোয়া মাহফিল হয়েছে, বিতরণ করা হয়েছে মিষ্টি।

জাইনের তিন চাচী বিমলা, লুৎফুন্নাহার ও হেলেনা খাতুন জানান, শেষবার বাবার সঙ্গে জাইন যখন বাড়িতে আসেন, আধাপাকা টিনশেড ঘরে রাত্রিযাপন করেছেন সাদাসিধেভাবে। তখন নিজেরাই (চাচি) রান্না করে তাদের খাইয়েছেন।

জাইনের ফুফু নাহিদ পারভীন মনি জানান, পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার বড় জাইনের বাবা, থাকেন নিউইয়র্কে। তাদের এক ভাই মারা গেছেন। অন্যরা কানাডার মন্ট্রিলে বসবাস করেন।   

জাইন সিদ্দিক প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রশাসনের উচ্চপদে নিযুক্ত হলেন। তিনি বেড়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। পড়াশোনা করেছেন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় ও ইয়েল ল স্কুলে।

জাইন বর্তমানে জো বাইডেন-কমলা হ্যারিস ট্রানজিশন টিমের অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক দলের চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের ভাইস প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের প্রস্তুতি দলের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর আগে বেটো ও’রোরকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচার দলের ডেপুটি পলিসি ডিরেক্টর ও তার সিনেট নির্বাচনের প্রচার দলের সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন জাইন সিদ্দিকী। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এলেনা কাগান, ডিসি সার্কিটের ইউএস কোর্ট অব আপিলসের বিচারক ডেভিড টাটেল ও ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক ডিন প্রিগারসনের কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।

এসএ/এডিবি