NAVIGATION MENU

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার অবদান সীমাহীন: তথ্যমন্ত্রী


বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার অবদানের কথা বিশ্ববাসীর অজানা নয়।'মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্রিপুরার মানুষ শুধু রাজ্য নয়, বাংলাদেশিদের জন্য খুলে দিয়েছিল তাদের মনের দুয়ার।  

ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায়   বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ একথা বলেন।

তিনি বলেন সেসময় ত্রিপুরার লোকসংখ্যা ছিল ১৫ লাখ। সেখানে বাংলাদেশি শরণার্থীর সংখ্যাও ছিল ১৫ লাখ।  বাংলাদেশ তাই সমগ্র ভারতের সাথে ত্রিপুরার অবদানের কথাও চিরদিন স্মরণ করবে।

'কারণ রণাঙ্গনে সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করেছিলেন হেমদারঞ্জন ত্রিপুরা, নীলোৎপল ত্রিপুরা প্রমুখ বীর যোদ্ধা।

মন্ত্রী এসময় সমগ্র ভারতের জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, 'ভারতের সহযোগিতা ছাড়া এত দ্রুত মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব ছিল না।'

তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক সীমানায় বিভক্ত হলেও বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এক, একই জলবায়ুতে একই নদীর অববাহিকায়  দু'দেশের মানুষের জন্ম ও বেড়ে ওঠা, একই পাখির কলতানে মুগ্ধতা। দু'দেশের মানুষের বন্ধুত্বও তাই সীমানা ছাড়িয়ে।'

চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'চলচ্চিত্র জীবনের কথা বলে, সমাজের দর্পণ হিসেবে মানুষের হৃদয়কে আন্দোলিত করে, হাসায়, কাঁদায়, স্বপ্ন দেখায়, জীবনের নতুন নতুন দিক উন্মোচন করে।

চলচ্চিত্র তার নির্মাণের সময়ের জীবনযাত্রাকে ইতিহাসে ধরে রাখে। তাই মানুষের কথা, মানুষের ভাবনা তুলে ধরতে চলচ্চিত্রের অবদান অনবদ্য।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ত্রিপুরার কৃষি, পর্যটন ও পরিবহন মন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায় বলেন, 'বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দু'দেশের সম্পর্ককে আরো বন্ধুত্বপূর্ণ করে তুলতে সংস্কৃতি, পরিবহন, বাণিজ্যসহ সবখাতে যে আন্তরিকতার দৃষ্টি দিয়েছেন, আমাদের সকলের দায়িত্ব সে উদ্যোগগুলোকে ত্বরান্বিত করা।'

এই চলচ্চিত্র উৎসবে আমাদের বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা কী করে আমাদের হলো, বিশ্ব আঙিনায় অমর একুশ, জাগে প্রাণ পতাকায়, জাতীয় সঙ্গীতে, পুত্র, খাঁচা, ভুবন মাঝি, গেরিলাসহ মুক্তিযুদ্ধ ও সমকালীন জীবনভিত্তিক ২০টি চলচ্চিত্র তিনদিনব্যাপী প্রদর্শিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ত্রিপুরার মন্ত্রীকে নৌকা স্মারক ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১৩জন ভারতীয় নাগরিককে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইসতাক হোসেন, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, উপ হাইকমিশনের প্রথম সচিব-প্রেস মোঃ মোফাখখারুল ইকবাল, চিত্রতারকা রোকেয়া প্রাচী, চঞ্চল চৌধুরী, সাইমন, অপর্ণা ঘোষ, চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন সহযোগী প্রতিষ্ঠান অনার্য কর্পোরেশনের নির্বাহী পরিচালক সফিক রহমান, উপদেষ্টা সুনীত কুমার পালৌধি প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। 


এস এস