ন্যাভিগেশন মেনু

বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়


‘সাড়ে তিন বছর বয়সী স্বাধীন বাংলাদেশকে ফের পাকিস্তানের অধীনে ফিরিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয়। তবে দেশের বাইরে থাকায় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রাণে রক্ষা পান।শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।’ 

১৫ আগস্ট শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা উল্লেখ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস ইতিহাস লেখা হয়েছিল এই দিনে। ঘাতকদের হাতে নিহত হয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের প্রায় সকল সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং বাসায় কর্মরত কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীরা। 

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করে নব্য পাকিস্তান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। শনিবার  বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

আমু বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। 

এ হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে যে অপশক্তি হত্যা করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি, তারা জানত বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এ কারণে ষড়যন্ত্রকারীরা স্বাধীন বাংলাদেশকে শেষ করে দেয়ার উদ্দেশ্যেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। 

বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মধ্য দিয়েই সেদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হত্যা করা এবং একটি নব্য পাকিস্তান সৃষ্টি করার জন্য এ হত্যাকাণ্ড।’ 

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সাত দিন পর চিফ অব আর্মি, তিনমাস পর ডেপুটি চিফ মার্শাল ল' অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এবং ছয়মাস পর প্রেসিডেন্ট ও চিফ মার্শাল ল' অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হন।

তার এই অগ্রগতি দেখলেই বোঝা যায় তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের আর্কিটেক্ট। শনিবার সন্ধ্যায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল শোকসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে যুক্ত হয়ে একথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আনিসুল হক বলেন, ‘জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের চপেটাঘাত দেওয়ার জন্য শাহ আজিজুর রহমানের মত রাজাকারকে প্রধানমন্ত্রী ও শামসুল হককে বিদেশমন্ত্রী বানিয়েছিলেন। রাজাকার আব্দুল আলিমকে মন্ত্রী করেছিলেন। 

এ সবের উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা। মন্ত্রী বলেন, জামাত শীর্ষ নেতা নিজামী-মোজাহিদকে খালেদা জিয়া মন্ত্রী বানিয়েছিলেন।’ 

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী না হলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার হতো না। তিনি ২০০৯ সালে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী না হলে বঙ্গবন্ধু হত্যার যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হতো না।

এদিকে এই নির্মম ঘটনার পরে কেমন ছিলো বাংলাদেশ? ৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশের কথা তুলে ধরতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ  আয়োজন করেছিলো ’৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশ ও কিছু অজানা কথা’ শীর্ষক একটি ওয়েবিনারের।

ওয়েবিনারের শুরুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না, তাকে শ্রদ্ধাভাবে স্মরণ করছি।জাতির পিতা ১২টি বছর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটিয়েছেন।তাঁর ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়েছেন, এরপর তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, ছয় দফাকে আমরা সমর্থন দিয়েছিলাম। এরপরে বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীনতার ডাক দিলেন তখন আমরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরলাম।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু রাতের আলোতে রাজনীতি করতেন না, যা করতেন দিনের আলোতে করতেন। এবং মানুষকে সাথে নিয়ে করতেন। এক দুজন মানুষ না, তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষ নিয়ে রাজনীতি করতেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সবাইকে জাতির পিতার  আদর্শে  উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার আহবান জানান।নূহ-উল-আলম লেনিন বঙ্গবন্ধুকে ৫ বার হত্যাচেষ্টার ঘটনাবলি উল্লেখ করেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাসহ নানান ভাবে হত্যা চেষ্টা করা হয়। এরপরে পাকিস্তানি ২ জন নাগরিক দিয়ে হত্যা চেষ্টা চালানো হয়।

শিক্ষামন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু পরিবার হত্যাকাণ্ডের পরে পুরো জাতিকে পাকিস্তানি ভাবধারায় করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন জিয়াউর রহমান। 

তিনি হত্যাকাণ্ডের বিচারকার্য বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি বেতার বাংলাকে পাকিস্তানের আদলে রেডিও বাংলাদেশ করলেন। সর্বোপরি ৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশ ছিল অন্ধকার, যা পুরোটা পাকিস্তানের আদলে সাজাতে চেয়েছেন জিয়া।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সাংবাদিক অজয় দাশ গুপ্ত। 

এস এস