ন্যাভিগেশন মেনু

পশ্চিমবঙ্গ ভোটে সমীক্ষার পাল্লা মমতার দিকে ভারী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ গেল লোকসভা নির্বাচনে ভারতে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি’র অভূতপূর্ব বিজয় দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন ২০২১ সালের বিধানসভায়ও বিজেপি ফসলটা ঘরে তুলে নিয়ে যাবে। 

কিন্তু ভোট দুয়ারে আসার সময় বিভিন্ন সংস্থার পরিচালিত সমীক্ষায় আগের ধারণা ভুল প্রমাণিত করে দেখা গিয়েছে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসতে চলেছেন।

ঢাকা থেকে টেলিফোনে কলকাতার একটি বহুল প্রচারিত দৈনিকের সম্পাদককে টেলিফোন করে জানা গেল, রাজ্যে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মসনদ টিকিয়ে রাখবেন। কেননা সমীক্ষাও তাই বলছে।

যদিও তাঁর আসন সংখ্যা কমবে।মমতাকে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে মসনদ বাঁচাতে হবে। 

একথা ঠিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ রাজ্যে মুসলিমদের হৃদয়ে তাঁর স্থান পাকা করে নিয়েছেন। একচোটিয়া তাঁর পাল্লায়। 

কেন্দ্রের এনআরসি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে একটা ভয় ঢুকে গিয়েছে যে, যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে তাহলে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া বিশাল জনগোষ্ঠীকে তাঁদের ফেরত পাঠানো হবে।

আর তাই ভোটাররা শেষ মুহূর্তে মমতার তৃণমূলকে হয়তো ভোট দিতে পারেন। কেননা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই বলে আসছেন- তাঁর রাজ্য থেকে একটা লোককেও ফেরত পাঠাতে দেবেন না।

যেমনটি তাঁর অনাগ্রহের কারণে শেষ মুহূর্তে তিস্তার পানি ভাগাভাগি করা যায়নি।গত মার্চ থেকে শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে ভোট। 

প্রধানমন্ত্রী ভোটারদের মনোভাব আঁচ করতে পেরে বাংলাদেশ সফরে গিয়ে ছুটে গিয়েছেন দক্ষিণের  গোপালগঞ্জ জেলার ওড়াকান্দির মতুয়া ধর্মগুরু হরিচাদ ঠাকুরের মন্দিরে আর পশ্চিমের জেলা সাতক্ষীরার যশোরেশ্বরী মন্দিরে। টুঙ্গিপাড়ায়। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? নাকি অন্য কোনও বিকল্প? বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মানুষের পছন্দ কে? বিধানসভা কে দখল করবে? ফের একবার কি মসনদ ধরে রাখতে সক্ষম হবে তৃণমূল কংগ্রেস? না কি, এবার ক্ষমতা আসবে বিজেপি? 

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় মোট আসন ২৯৪। ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। এই পরিস্থিতিতে তুলে ধরা হচ্ছে সি ভোটারের তৃতীয় দফার জনমত সমীক্ষা। আর তাতে উঠে আসছে চমকপ্রদ কিছু তথ্য।

সমীক্ষায় সকলের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাকে পছন্দ? ৫২ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তাঁদের পছন্দ মমতাই। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসাবে উঠে এসছে বিজেপি। 

তবে ২৭ শতাংশ মানুষের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে পছন্দ দিলীপ ঘোষকে। ৭ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তাঁদের পছন্দ মুকুল রায়। আর যদি বাম-কংগ্রেস-ISF জোট ক্ষমতায় আসে? 

মাত্র ৩ শতাংশ মানুষ বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁদের পছন্দ সুজন চক্রবর্তী। পাশাপাশি জোটের আর এক মুখ অধীররঞ্জন চৌধুরীকেও মাত্র ৩ শতাংশ মানুষ পছন্দ করছেন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে। আর ৮ শতাংশ মানুষ অন্য কাউকে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে।

বিধানসভা ভোটে কোন দল ক’টি আসন পেতে পারে? সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, তৃণমূল পেতে পারে ১৫০ থেকে ১৬৬টি আসন। মনে করা হচ্ছে, বাংলার মসনদ দখলের লড়াইয়ে তৃণমূলের প্রায় ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। 

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বিজেপির ঝুলিতে যেতে পারে ৯৮ থেকে ১১৪টি আসন। এবার জোট বেঁধেছে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস ও ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট বা ISF। তারা পেতে পারে ২৩ থেকে ৩১টি আসন। অন্যান্যরা পেতে পারে ৩-৫টি আসন।

পাশাপাশি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৫৪ শতংশ মানুষ মনে করছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতার পারফরম্যান্স ভাল। একইভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদির পারফরম্যান্স নিয়েও সমীক্ষা চালানো হয়েছে। ৪৬ শতাংশ মানুষের মতে, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদির পারফরম্যান্স ভাল 

এদিকে ‘বাংলায় প্রথম দফায় ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে।অতীত রেকর্ড ভেঙে ভোট দিয়ে মানুষ বিজেপিকে সমর্থন জানিয়েছে। দ্বিতীয় দফাতেও জোরকদমে চলছে ভোটগ্রহণ। আর তাতেই স্পষ্ট, এবার দু’শোর বেশি আসন জিতে বাংলায় আসছে ভারতীয় জনতা পার্টি।’

জয়নগরের জনসভায় দাঁড়িয়ে দৃঢ় কণ্ঠে এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নির্বাচন শুরুর আগে থেকেই গেরুয়া শিবির দাবি করে চলেছে, এবার তৃণমূলকে হারিয়ে তারা সরকার তো গড়বেই, দু’শোর বেশি আসনও পাবে। 

বৃহস্পতিবার জয়নগরের সভায় মোদির মুখে ফের সে কথাই শোনা গেল। প্রথম দফায় ভোটের হার দেখে উচ্ছ্বসিত মোদি বলে দিচ্ছেন, বাংলায় নির্বাচনের শুরুটা জোরদার হয়েছে। আর এতেই বোঝা যাচ্ছে বাংলায় বিজেপি ২০০ আসন পার করবে।

এদিন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের চার জেলার ৩০ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। তবে গোটা দেশের নজর নন্দীগ্রামে। 

আজ বিকেল ৩.৫৭ মিনিটে বুথ থেকে বেরিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতাজী বললেন, “নন্দীগ্রামে আমিই জিতব। সেটা নিয়ে আগেও চিন্তা ছিল না। ওরা যাই করুক, মানুষ আমাকেই ভোট দিচ্ছেন।

বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করেই মমতা বললেন, “ওরা গুণ্ডামি চালাচ্ছে। আমি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দোষ দেব না। খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওদের নির্দেশ দিচ্ছে। আমি বারবার নির্বাচন কমিশনকে বারবার চিঠি দিয়েছি। তারা আমাদের কথা শোনেনি।সরব হলেন নির্বাচনের দিন প্রধানমন্ত্রী প্রচারসভা বিরুদ্ধেও। 

দীর্ঘ আট দফায় এবারে হবে পশ্চিমবঙ্গের ভোট। বাংলার বিধান এবারে থাকবে কাদের পক্ষে, চূড়ান্ত ফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২ মে পর্যন্ত।

 ২৭ মার্চ ভোটের শুরুটা শান্তিপূর্ণ হলেও বেলা বাড়তেই চেনা ছন্দে ফিরে আসে বাংলার ভোটচিত্র। নির্বাচনে রাজ্যে হিংসার অভিযোগ উঠছে। 

এমনকী বিজেপি নেতাকে গুলি করে মারারও হুমকি দিয়েছেন পুরুলিয়ার তৃণমূল প্রার্থী। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দক্ষিণ কাঁথিতে ভিভিপ্যাট নিয়ে বড় অভিযোগ উঠেছিল। 

অনেক ভোটার অভিযোগ করেছেন যে তৃণমূলে ভোট দিলে তা বিজেপিতে চলে যাচ্ছে। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কমিশন। বিক্ষিপ্ত অশান্তি হলেও, প্রথম দফার ভোট ছিল শান্তিপূর্ণ।  

সি ভোটারের তৃতীয় দফার সমীক্ষায় কী ফলাফল উঠে এসেছিল

সি ভোটারের তৃতীয় দফার জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছিল, বিধানসভা ভোটে তৃণমূল পেতে পারে ১৫০-১৬৬টি আসন। বিজেপি পেতে পারে ৯৮-১১৪টি আসন। বাম-কংগ্রেস-ISF জোট পেতে পারে ২৩-৩১টি আসন। অন্যরা পেতে পারে ৩-৫টি আসন।

সি ভোটার জনমত সমীক্ষা (চূড়ান্ত দফা) ।তৃণমূল  42% ।বিজেপি  37%  । বাম+কংগ্রেস+ISF 13% অন্যান্য   8%C-Voter Opinion Poll Results 2021 LIVE Updates: বিধানসভা ভোটে সম্ভাব্য প্রাপ্ত আসনের তুলনা সি ভোটার জনমত সমীক্ষা (চূড়ান্ত দফা) । 

তৃণমূল  152-168   

বিজেপি  104-120   

বাম+কংগ্রেস+ISF 18-26   

অন্যান্য   0-2

CNX জনমত সমীক্ষা  (চূড়ান্ত দফা)  । তৃণমূল   136-146

বিজেপি    130-140

বাম+কংগ্রেস+ISF  14-18

অন্যান্য   1-3

ওআ/