ন্যাভিগেশন মেনু

নানা আয়োজনে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ গোপালগঞ্জের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহদাত বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার গোপালগন্জের আল জামেয়াতুল ইসলামিয়া  সুলতানশাহী ঘোড়াদাইড় সুলতানুল উলুম  মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এতিম ছাত্রদেরকে নিয়ে হামদ, নাত, কোরআন তেলাওয়াত এবং আজান প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

জুম্মার নামাজের পর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে  আলোচনা সভা শুরু করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ওজোপাডিকো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: শফিক উদ্দিন।

তিনি বক্তব্যে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে প্রথম  ইসলামিক ফাউন্ডেশন গঠন করেন। মহান আল্লাহ পাক ও হযরত মোহাম্মদ (স:) সব সময় নীরিহ, এতিম, নীপিড়িত , সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সেবা করার কথা বলেছেন।

বঙ্গবন্ধু মহান আল্লাহ পাক ও তার রাসুলকে অনুসরণ করে সারা জীবন নীরিহ, এতিম, নীপিড়িত, সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

যেখানেই অন্যায়, অনিয়ম দেখেছেন সেখানেই তিনি সোচ্চার হয়েছেন এবং বজ্র কন্ঠে আওয়াজ তুলেছেন। ০৭ই মার্চের বজ্র কন্ঠে ভাষণে আমরা শুনতে পাই ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম , মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব তবুও এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।’

আল্লাহর উপর ভরসা করে তিনি আমাদের একটি স্বাধীন মানচিত্র , একটি স্বাধীন পতাকা উপহার দিয়ছেন।

"১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু প্রতিদিন বাঙ্গালীর এগিয়ে যাওয়ার সংগ্রামে উদ্দীপনা যুগিয়েছেন, বাঙ্গালী এগিয়ে গেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কিছু  কুলাঙ্গার, নরপিচাষ সেনা সদস্য ষড়যন্ত্র করে  তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিল।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পর বাঙ্গালী রাস্ট্রের পরিচয়টি মুছে ফেলার চেষ্টা, তাঁকে ইতিহাস থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া, তাঁর সব অর্জনকে অস্বীকার করে তাঁর সব চিহ্ন মুছে ফেলার আয়োজন শুরু করলো।

কিন্তু যাকে বাঙ্গালী এত দীর্ঘদিন সামনে ও পাশে পেয়েছে তাঁকে ভুলিয়ে দেওয়াটা কত অবাস্তব একটা তা কুশি-লবরা বুঝতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুকে হারাবার এ শোকাবহ দিনে আমাদের একটাই প্রত্যয় হোক- শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে বঙ্গবন্ধুর অসামাপ্ত কাজকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে  আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশে এনে রায় কার্যকর করা।

মাদ্রাসার মোহতামিম ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিমানসম্পন্ন বক্তা মাওলানা মো: নাসির আহমাদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুলতানশাহী গ্রামের মরহুম আব্দুল খালেক মোল্লার ছোট ছেলে ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ নাজমুল হুদা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদ্রাসার সভাপতি আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা আব্দুল মান্নান, গোপালগন্জ জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব শেখ মোঃ আবু দাউদ ও ওজোপাডিকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ শহীদুল আলম। এ সময় এলাকার অন্যান্য সন্মানিত মুরব্বীরা উপস্হিত ছিলেন।

সভা শেষে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্য  যারা শাহাদাৎ বরণ করেছেন তাদের আত্মার মাগফেরাতের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দুপুরে  এতিম ছাত্রদের মধ্যে উন্নত মানের খাবার প্রদান করা হয়।

এস এস