ন্যাভিগেশন মেনু

যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েড হত্যায় অভিযুক্ত চৌভিনের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রধানের সাক্ষ্য


যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে নিহত আফ্রিকান-আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের বিচার চলছে। এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চৌভিনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন মিনিয়াপোলিশের পুলিশ প্রধান মেদারিয়া অ্যারাদোন্ডো।

স্থানীয় সময় সোমবার (৫ এপ্রিল) তিনি বলেন, সাবেক অফিসার ডেরেক চৌভিন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সংস্থাটির নীতি লঙ্ঘন করেছিলেন।

মিনিয়াপোলিস পুলিশের প্রধান বলেন, ফ্লয়েডের বিষয়ে চৌভিনের আচরণ আমাদের বাহিনীর নীতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে যায় না। এমনটা প্রশিক্ষণেও শেখানো হয়নি।

গত বছরের মে মাসে ফ্লয়েডকে ৯ মিনিট ধরে হাঁটু চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর চৌভিনসহ মোট চার কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। চৌভিনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনের ঢেউ লেগেছিল সারা বিশ্বেই।

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চৌভিন যখন ফ্লয়েডকে হাঁটু চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করছিলেন, সেই মুহূর্তে ফ্লয়েড শুধু বলেছিলেন, 'আমি শ্বাস নিতে পারছি না'। সেই ফ্লয়েডের উচ্চারিত শেষ বাক্যটিই হয়ে উঠে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মূল প্রেরণা।

বিবিসির প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালের মে মাসে পুলিশ আটক করার পর ৪৬ বছর বয়সী ফ্লয়েড হৃদরোগে আক্রান্ত হন পরে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের গলায় হাঁটু  দিয়ে চাপ বা আটকে ধরার কারণে দম বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

এক প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ১০ মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার গলায় হাঁটু দিয়ে চেপে ধরায় ফ্লয়েড নিঃশ্বাস নিতে পারছিল না বলে কাতরাচ্ছিলেন এবং বারবার বাঁচার আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না’।

ওই ঘটনায় জড়িত অফিসার ডেরেক চাওভিনের বিরুদ্ধে তৃতীয় পর্যায়ে হত্যা ও অনিচ্ছাকৃত বা বেআইনি হত্যার অভিযোগ এনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এছাড়া এই ঘটনায় জড়িত আরও তিন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়।

এই বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ময়নাতদন্তে জর্জ ফ্লয়েডের হৃদরোগ ও সাম্প্রতিক মাদক গ্রহণের প্রমাণ রয়েছে এবং  পুলিশ অফিসার চেপে ধরার কারণে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন পরে নিঃশ্বাস নিতে না পারায় মারা যান।

ফ্লয়েডের পরিবারের নিযুক্ত আইনজীবী বেঞ্জামিন ক্রাম্প বলেন, ফ্লয়েডের পরিবারের পক্ষ থেকে আরেকটি পরীক্ষা করার মাধ্যমে পুলিশ গলা ও ঘাড়ে চাপ প্রয়োগ করায় ফ্লয়েড অক্সিজেন চলাচলের বাধাজনিত অ্যাসফিক্সিয়ায় আক্রান্ত হন বলে জানা যায়।

বেঞ্জামিন ক্রাম্প আরও বলেন, পুলিশ ডেরেক চাওভিন ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে চাপা না দিলে ফ্লয়েড বেঁচে থাকতেন।

জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় সে সময় মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য থেকে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে।

ওয়াই এ/এডিবি/