ন্যাভিগেশন মেনু

চিনে প্রবল বন্যা ও মেট্রো টানেলে ভূমিধসে ২৫ জনের মৃত্যু


চিনের মধ্যাঞ্চলের প্রদেশ হেনানে প্রবল বর্ষণে কমপক্ষে ২৫ জন নিহত এবং আরও সাতজন নিখোঁজ রয়েছে। ভূমিধস ও বন্যার কারণে ঝেংঝু শহরের মেট্রো রেল ব্যবস্থা আংশিকভাবে ডুবে গেছে।

স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী ঝেংঝুতে উদ্ধার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঝেংঝু শহরে এক কোটি লোকের বসবাস - যেখানে কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত রাস্তাঘাট এবং পাতাল সড়কে ডুবে গেছে।

বিবিসি জানায়, বন্যার পানির তোড়ে শহরের বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং বহু ট্রেনের ভেতরেও বুক সমান পানি জমে যায় এবং তাতে বহু যাত্রী আটকা পড়েন।

সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায় যাত্রীরা পানির ওপর কোনমতে মাথা তুলে রাখতে পারছেন। পানির তোড়ে প্ল্যাটফর্ম ভেসে গেছে। পাতাল রেলের সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে পাঁচ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন। 

চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম বলছে, প্রদেশের ১২টিরও বেশি শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হেনান প্রদেশের রাজধানী ঝেংঝু শহরে এক বছরে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, তা হয়েছে মাত্র তিন দিনে।

সেখানে শহরটির পাতাল রেলের সুড়ঙ্গ এবং ট্রেনগুলোর ভেতরেও বিপুল পরিমাণ বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। ট্রেনগুলোতে শত শত যাত্রী আটকা পড়েন এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রেনের কামরাগুলোর ভেতরে যাত্রীদের বুক সমান পানি উঠে গেছে, এবং পানির ঢল এসে প্ল্যাটফর্ম ভাসিয়ে দিচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ট্রেনগুলোর জানলা ভেঙে এবং ছাদ কেটে শত শত যাত্রীকে বের করে আনেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেট্রোয় কমপক্ষে ১২ জন মারা গেছে এবং পাঁচজন আহত হয়েছে।

প্রবল বৃষ্টির ফলে মাটির ওপরে রাস্তাগুলো নদীর চেহারা নেয়। পানির প্রবল স্রোতে বহু গাড়ি ভেসে যেতে থাকে। অনেকগুলো বাঁধ ভেঙে গেছে, কোথাও সেনাবাহিনী নামিয়ে উপচে পড়া নদীর পানি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেবার চেষ্টা চলছে। বেশ কিছু জায়গায় ট্রেন ও বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পুরো প্রদেশ জুড়ে অসংখ্য বাড়িঘর, স্কুল এবং হাসপাতাল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

এডিবি/