NAVIGATION MENU

গণধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষণে মৃত্যু হয় সুমির


পোশাক শ্রমিক সুমি আক্তারের মৃত্যু হয়েছে গণধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষণে। মৃত্যুর ৬১ দিন পর ময়মনসিংহের ভালুকার লিপি আক্তার ওরফে সুমি হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। 

গত ১৫ মার্চ ৬ যুবক মিলে গণধর্ষণের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সুমির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে দুজন এ তথ্য জানিয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত ৫ জন হলো- কথিত প্রেমিক রকিবুল ইসলাম (১৮), তার বন্ধু হৃদয় মিয়া (১৯), জয়নাল (২০), মামুন (১৯) ও লেগুনাচালক রাব্বি (২১)। এদের মধ্যে রকিবুল ও হৃদয় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

ভালুকা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানায়, উপজেলার কংশেকুল গ্রামের বাক প্রতিবন্ধী নূর হোসেন পরিবার নিয়ে উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার আবুল সরকারের বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন। তার মেয়ে লিপি আক্তার পাশের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

লিপি আক্তার পোশাক কারখানায় ডিউটি শেষে ফেরার পথে গত ১৫ মার্চ রাত ১০টার পর থেকে নিখোঁজ হন। ১৭ মার্চ লিপির বাবা নূর হোসেন গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। 

পুলিশ ও পরিবার সূত্র জানায়, গত ১৯ মার্চ বিকেলে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ অফিসের পূর্ব পাশে বিলাইজোড়া খালের সেতুর পাশ থেকে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরেরদিন নূর হোসেন নামের এক ব্যক্তি মরদেহটি তার মেয়ে লিপি আক্তারের বলে শনাক্ত করেন।

পরে ২০ মার্চ দুপুরে নূর হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে ভালুকা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আসামিদের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, ইয়ার্ন নামের একটি কারখানায় চাকরি করার সুবাদে সুমির সঙ্গে হবিরবাড়ি হামিদের মোড় এলাকার আতর আলীর ছেলে রকিবুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। খুন হওয়ার কয়েকদিন আগে থেকে লিপি বিয়ে করার জন্য রকিবুলকে চাপ দেয়। কিন্তু রকিবুল তাতে রাজি না হয়ে লিপির সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। পরে ১৪ মার্চ রকিবুল আরও কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে লিপিকে গণধর্ষণের পরিকল্পনা করে।

সেই মোতাবেক ১৫ মার্চ রাতে লিপির কারখানা ছুটি শেষে লিপিকে রাব্বির লেগুনা দিয়ে রকিবুল জামিরদিয়া কড়ইতলা মোড়ের উত্তর পাশে একটি গভীর বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে সুমির হাত বেঁধে রাব্বি, মামুন, রকিবুল, আশিক, হৃদয় ও জয়নাল পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই লিপির মৃত্যু হয়। রাতে ঘটনাস্থলেই লিপির লাশ ফেলে রেখে যায়। আসামিরা পর দিন ১৬ মার্চ রাতে রাব্বির লেগুনা দিয়ে সুমির লাশ এনে বিলাইজোরি খালের পাশে ফেলে দেয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভালুকা মডেল থানার এসআই ইকবাল হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রকিবুল ইসলাম, ময়মনসিংহ জেলার ধুবাউড়া উপজেলার উদয়পুর হরিণধরা গ্রামের শামছুল হকের ছেলে হৃদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধোবাউড়া উপজেলার ওই গ্রামের শামছুল হকের ছেলে মামুন, আব্দুছ ছাত্তারের ছেলে জয়নাল ও ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া গ্রামের খন্দকার পাড়ার মুঞ্জুরুল হকের ছেলে রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৬ জনের মাঝে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পলাতক অপর এক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

ওসি আরও জানান, লিপি হত্যা মামলাটি ছিল ক্লু-লেস। হত্যার রহস্য উদঘাটনে বেশ বেগ পেতে হতে হয়েছে। কারণ, ওই মেয়ের পরিবারের অন্য সদস্যরা বাক-প্রতিবন্ধী। তারা পুলিশকে কোনো ধরনের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেনি তাই মামলার রহস্য উদঘাটনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। তাছাড়া, তদন্ত কর্মকর্তাকে ছদ্মবেশ ধারণ করে আসামি শনাক্ত করতে হয়েছে।

এডিবি/