ন্যাভিগেশন মেনু

কারফিউ ভেঙে ধর্মঘটে অচল মায়ানমার


মায়ানমারে সামরিক জান্তাদের হুমকির পরেও অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। কারফিউ উপেক্ষা করে সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দেশটিতে সাধারণ ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে গোটা দেশ।

সহিংসতায় প্ররোচনা বন্ধে নিজেদের বিধিবিধানের আলোকে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে মায়ানমারের সেনাবাহিনীর মূল পেইজটি ডিলিটও করে দিয়েছে।

দেশটির পুলিশ রবিবার অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারীদের সমর্থন করায় হুলিয়া জারি হওয়া এক সুপরিচিত অভিনেতাকে গ্রেপ্তার করেছে বলে তার স্ত্রী ফেইসবুকে জানিয়েছেন। অভ্যুত্থান এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চিসহ অন্য রাজনীতিকদের আটকের বিরুদ্ধে গত দুই সপ্তাহ ধরে মায়ানমারের বিভিন্ন শহরে যে বিক্ষোভ ও আইন অমান্য কর্মসূচি চলছে সামরিক জান্তা তা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

রবিবার ইয়াংগনের দুটি স্থানে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছে; শনিবার যে শহরে গুলি চলেছিল, সেই মান্দালয়ে লাখো মানুষ শান্তিপূর্ণ সমাবেশও করেছে, জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘাত দেখা উত্তরের শহর মেকিনাতে অসংখ্য মানুষ ফুল দিয়ে নিহত বিক্ষোভকারীদের স্মরণ করেছেন।

মধ্যাঞ্চলীয় শহর মোনিওয়া ও বাগাম দক্ষিণের দাউই, মেইক এবং পূর্বাঞ্চলীয় মায়াওয়াদি শহরেও বড় বড় বিক্ষোভ হয়েছে। ‘তারা নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের মাথাকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। তারা আমাদের ভবিষ্যৎকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে,’ মান্দালয়ে সমাবেশে এমনটাই বলেছেন তরুণ এক বিক্ষোভকারী।

মায়ানমার ২০১১ সালের আগেও প্রায় অর্ধশতক সেনাশাসনে ছিল; সেসময় অসংখ্য রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ দেখা গেছে। সে তুলনায় এবারের প্রতিবাদগুলো বেশ শান্তিপূর্ণই হচ্ছে। ‘মানুষ আরও বাড়বে, আমরা থামবো না’ বলেছেন ইয়াংগনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ইন নিয়েন।

জাতিসংঘনের মায়ানমার বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টার টম অ্যান্ড্রুজ শনিবার মান্দালয়ে গুলিতে এক কিশোরসহ ২ জন নিহতের ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছেন।

ওআ/