ন্যাভিগেশন মেনু

এবার আনসারের টার্গেটে ছিল বিজিবি,পালানোর পরিকল্পনা ছিল আফগানিস্তানে

বাংলাদেশে বড়-সড় নাশকতার আগেই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আ ল ইসলামের চার সদস্যকে পাকড়াও করে ভেস্তে  দেওয়া হয়েছে সে পরিকল্পনা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের ৪ সদস্যের সাতদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার (৯ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ-উর-রহমানের আদালত রিমান্ডের এ আদেশ দেন। 

গত সপ্তাহে সংসদ ভবনে হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তার আগেই ২ জনকে পাকড়াও করে নস্যাৎ করে দেওয়া হয়।এরআগে জঙ্গি সংগঠনটি বিভিন্ন সময় পুলিশের ওপর হামলা চালালেও এবার তাদের টার্গেটে ছিল আধা-সামরিক বাহিনি বরডার গারড- বিজিবি সদস্যদের ওপর। 

পুলিশ-বিজিবি সদস্যদের টার্গেট হামলার জন্য ইতিমধ্যে রেকিও সম্পন্ন করে জঙ্গি সংগঠনটির একটি টিম। এমনকী হামলার পর কথিত হিজরতের নামে আফগানিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করে বিস্ফোরক তৈরির চেষ্টা করছিলেন তারা। 

শনিবার রাতে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনসার আল ইসলামের চার সদস্যকে আটক করে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। 

আটক করা হয়- মো. জসিমুল ইসলাম ওরফে জ্যাক, মো. আব্দুল মুকিত, মো. আমিনুল হক ও সজীব ইখতিয়ার। এসময় তাদের কাছ থেকে  ল্যাপটপসহ নানা সামগ্রি উদ্ধার করা হয়। রবিবার দুপুরে ঢাকায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান।

 তিনি জানান, সিলেটের যেকোনো একটি বিজিবি স্থাপনায় এবং ঢাকার কোনো একটি পুলিশ স্থাপনায় অথবা টহল টিমের ওপর হামলার পরিকল্পনা ছিল আনসার আল ইসলামের এই গ্রুপের। এজন্য তারা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের হামলার উদ্দেশ্যে রেকিও করে। পুলিশের উপর জঙ্গিদের টার্গেট বহুদিন ধরেই দেখা গেছে কিন্তু হঠাৎ করে বিজিবির উপর তাদের টার্গেট কেন হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা তাগুতের প্রথম ক্যাটাগরিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের রেখেছে। 

এই গ্রুপের দু’জন সদস্য হিজরতের নামে আফগানিস্তানে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আটক চারজনেরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা করে কথিত হিজরতের নামে আফগানিস্তান পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। টেলিগ্রাম আ্যপসে ‘সায়েন্স প্রজেক্ট’ নামে একটি গ্রুপ তৈরি করে পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ করে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করে বিস্ফোরক প্রস্তুতের চেষ্টা করেছিল। 

তাদের কাছ থেকে জব্দ করা ডিভাইস পর্যালোচনা করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি তারা সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নির্দেশে সিলেটের কোতোয়ালি থানা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে হোটেল ম্যানেজারকে জখম করে পালিয়ে যায়। আটকদের মধ্যে জসিমুল হক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অতীশ দীপংকর ইউনিভার্সিটির বিবিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র, আব্দুল মুকিত হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানার মারকাজুস সুন্নাহ আল ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষকতা করতেন। 

এছাড়া, আমিনুল হক সিলেটের আল হিদায়া ইসলামিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র এবং সজীব ইখতিয়ার সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে যে কয়টি জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় তাদের অধিকাংশই আল-কায়েদার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন দাবি তাদের। 

আনসার আল ইসলাম উপমহাদেশের আল-কায়দার শাখা বলে নিজেদের দাবি করে। সেই সূত্র ধরেই তারা হয়তো বা আফগানিস্তানে হিজরত করতে গিয়ে থাকতে পারে। 

এস এস